শব্দ ও পদের গঠন (পরিচ্ছেদ ৯)

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি | NCTB BOOK
6.5k
Summary

শব্দমূল ও পদ:

শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলা হয়, যা প্রকৃতি নামেও পরিচিত। প্রকৃতি দুই প্রকার:

  • নামপ্রকৃতি: উদাহরণ— মা, গাছ, শির, লতা।
  • ক্রিয়াপ্রকৃতি (ধাতু): উদাহরণ— কর্, যা, চল্, ধূ।

নতুন শব্দ গঠনের জন্য নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত করা হয়, যার নাম উপসর্গ এবং প্রত্যয়:

  • উপসর্গ: শব্দমূলের পূর্বে যুক্ত হয়। উদাহরণ— "পরিচালক" শব্দে "পরি" অংশ।
  • প্রত্যয়: শব্দমূলের পরে যুক্ত হয়। উদাহরণ— "সাংবাদিক" শব্দে "ইক" অংশ।

এভাবে গঠিত শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়। এছাড়া সমাস, শব্দদ্বিত্ব এবং লগ্নক শব্দগুলির মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠন হয়।

লগ্নক প্রকার:

  • বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল বা কারক বোঝাতে। উদাহরণ— "করলাম", "কৃষকের"।
  • নির্দেশক: পদের নির্দিষ্ট বর্ণনায়। উদাহরণ— "লোকটি", "ভালোটুকু"।
  • বচন: পদের সংখ্যা বোঝায়। উদাহরণ— "ছেলেরা", "বইগুলো"।
  • বলক: বক্তব্যকে জোরালো করে। উদাহরণ— "তখনই", "এখনও"।

বাক্যের সলগ্নক ও অলগ্নক পদ:

  • সলগ্নক পদ: লগ্নক আছে। উদাহরণ— "ছেলেরা", "খেলে"।
  • অলগ্নক পদ: লগ্নক নেই। উদাহরণ— "ক্রিকেট"।

শব্দ ও পদে পার্থক্য:

  1. শব্দভান্ডার অভিধানে থাকে, পদ বাক্যে ব্যবহৃত।
  2. শব্দ বিচ্ছিন্ন, পদ সম্পর্কিত।
  3. শব্দের অংশ উপসর্গ ও প্রত্যয়, পদের অংশ বিভিন্ন প্রকার লগ্নক।
  4. শব্দ দুই শ্রেণির, পদ অলগ্নক ও সলগ্নক।
  5. শব্দ রূপতত্ত্ব, পদ রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য।

এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে। শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি। ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু। নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়। নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: কর্, যা, চল্, ধূ ইত্যাদি।

নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোর নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়:

উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়। উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস, যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন 'হাট' ও 'বাজার' শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় 'হাটবাজার'। এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে। 'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে' এই বাক্যের 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সলগ্নক পদ আর 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।

শব্দ ও পদের মধ্যকার কয়েকটি পার্থক্য নিচে দেখানো হলো

শব্দ

পদ

১. প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব শব্দভান্ডার থাকে। সাধারণত অভিধানে তা সংকলিত হয়।১. শব্দ যখন বাক্যে স্থান পায়, তখন তার নাম হয় পদ।
২. অভিধানের শব্দগুলো বিচ্ছিন্ন ও পরস্পর সম্পর্কহীন।২. বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
৩. শব্দের অংশ উপসর্গ ও প্রত্যয়।৩. পদের অংশ বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।
৪. গঠনগতভাবে শব্দ দুই শ্রেণির: মূল শব্দ ও সাধিত শব্দ।৪. গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের: অলগ্নক পদ ও সলগ্নক পদ।
৫. শব্দ শুধু রূপতত্ত্বের আলোচ্য।৫. পদ একইসঙ্গে রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুশীলনী

1.4k

সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✓) দাও। 

১. শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কী বলে? ক. পদাণু খ. পদ গ. বাক্যাংশ ঘ. প্রকৃতি

২. পদের লগ্নক কত ধরনের? ক. দুই খ. তিন গ. চার ঘ. পাঁচ 

৩. কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না? ক. প্রত্যয় খ. বিভক্তি গ. বলক ঘ. উপসর্গ 

৪. যেসব শব্দাংশ পদের যঙ্গে যুক্ত হয়ে বক্তব্য জোরালো করে তাকে কী বলে? ক. বলক খ. প্রত্যয় গ. বিভক্তি ঘ. উপসর্গ 

৫. কোনটি সাধিত শব্দ? ক. গাছ খ. পরিচালক গ. মাছ ঘ. চাঁদ

৬. কোনটি মৌলিক শব্দ? ক. চাঁদ খ. বন্ধুত্ব গ. প্রশাসন ঘ. দায়িত্ব 

৭. শব্দের কোথায় প্রত্যয় যুক্ত হয়? ক. প্রথমে খ. শেষে গ. মধ্যে ঘ. যে কোনো স্থানে 

৮. কোনটি নির্দেশক? ক. রা খ. পরি গ. টুকু ঘ. ই 

৯. কোনটি লগ্নক নয়? ক. প্রত্যয় খ. নির্দেশক গ. বলক ঘ. বচন 

১০. 'নৌকার ছইয়ে নীল মাছরাঙাটি বসে আছে' বাক্যে অলগ্নক পদ কোনটি? ক. নৌকার খ. ছইয়ে গ. নীল ঘ. মাছরাঙাটি

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...